রবিবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং। ৭ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ। ভোর ৫:১০








প্রচ্ছদ » হেলথ টিপস

হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের লক্ষন ও প্রতিরোধের উপায়

হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসজনিত মারাত্মক সংক্রামক রোগ। যে ভাইরাসের মাধ্যমে এ রোগ হয়ে থাকে, সেটির নাম হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস।

লক্ষণ : হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে লিভারে প্রদাহ হয়। প্রথম দিকে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা দিতে নাও পারে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে সামান্য জ্বর হয়। এরপর খাওয়ায় অরুচি, বমি বমি ভাব, বমি ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন...

একই সঙ্গে প্রস্রাবের রঙ হলুদ হয়; চোখও। শরীরের ত্বকও হলুদ হয়ে যেতে পারে। পেটের ওপরের অংশের ডানদিকে ব্যথা হয়। লিভার বড় হয়ে যায়। হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার ১ থেকে ৬ মাস পর হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। তবে কয়েক বছর পরেও লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। লিভারে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ থেকে অনেক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

যেভাবে ছড়ায় : আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও দেহরসে (যেমনÑ লালা, বীর্য, জরায়ু থেকে নিঃসারিত রস) হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস থাকে। রোগীর রক্ত ও দেহরসের মাধ্যমে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস ছড়ায়।

সিরিঞ্জ দিয়ে শিরায় মাদক গ্রহণের সময়, ইনজেকশনের সময় জীবাণুমুক্ত সিরিঞ্জ-সুই ব্যবহার না করলে, হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস দ্বারা দূষিত রক্ত পরিসঞ্চালনের মাধ্যমে, অনিরাপদ যৌনমিলনের মাধ্যমে, একই ব্লেড বা রেজার দিয়ে সেলুনে শেভ করার মাধ্যমে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। মায়ের হেপাটাইসি-বি থাকলে জন্মের সময় নবজাতক সংক্রমিত হতে পারে।

আক্রান্ত ব্যক্তির জন্ডিস হওয়ার একমাস আগে থেকে শুরু করে যতদিন পর্যন্ত তার রক্তে ‘এইচবিএসএজি’ উপস্থিত থাকে, ততদিন পর্যন্ত রক্ত বা দেহরসের মাধ্যমে অন্যের দেহে হেপাটাইটিস-বি ছড়াতে পারে।

যাদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি : যে কারো হেপাটাইটিস-বি হতে পারে। তবে ইনজেকশনের মাধ্যমে শিরায় মাদক গ্রহণকারী, যৌনকর্মী, হেপাটাইসি-বি ভাইরাসে আক্রান্ত মায়ের সন্তান এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। স্বাস্থ্যকর্মীরাও এ রোগ থেকে ঝুঁকিমুক্ত নন।

জটিলতা : আপাতত সুস্থ হয়ে গেলেও অনেক সময় হেপাটাইসি-বি ভাইরাসে আক্রান্ত অনেকেরই লিভারে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ হয়। ফলে লিভার সিরোসিস হয়ে লিভার নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমনকি লিভার ক্যানসার হয়ে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। ছয় বছর বয়সের কম বয়সী শিশুরা হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে এসব জটিলতার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে।

এ ছাড়া আক্রান্ত অনেকেই রোগের কোনো লক্ষণ ছাড়াই ‘দীর্ঘমেয়াদি বাহক বা ক্যারিয়ার’ হিসেবে রক্ত বা দেহরসে ভাইরাস বহন করে দীর্ঘদিন অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে পারে।

যেভাবে প্রতিরোধ করা যায় : ইপিআই কার্যক্রমে শিশুদের পেন্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন নামক টিকা দেওয়া হয়। এতে রয়েছে হেপাটাইটিস-বি প্রতিরোধ করার ক্ষমতা। শিশুর বয়স ৬ সপ্তাহ পূর্ণ হলে পেন্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়। তারপর ১০ সপ্তাহের সময় দ্বিতীয় ডোজ এবং ১৪ সপ্তাহের সময় তৃতীয় ডোজ দিতে হয়।

ইপিআই কার্যক্রমের বাইরে হেপাটাইসি-বি প্রতিরোধ করার জন্য হেপাটাইসি-বি ভ্যাকসিন নামক আরেকটি টিকা আছে। দুই ডোজ ‘হেপাটাইসি-বি’ টিকা দিয়ে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়। প্রথম ডোজের এক থেকে ছয় মাস পর এ টিকার দ্বিতীয় ডোজ দিতে হয়। কোনো ব্যক্তি টিকা দেওয়ার আগে তার রক্তে ‘এইচবিএসএজি’ আছে কিনা, তা পরীক্ষা করে নিতে হয়।

এইচবিএসএজি’ না থাকলে টিকা দিতে হয়। ‘এইচবিএসএজি’ থাকলে টিকা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। আগে টিকা দেওয়া হয়নি, এমন কোনো ব্যক্তি হঠাৎ করে ‘এইচবিএসএজি’ আছে, এমন কোনো রক্ত বা দেহরসের সংস্পর্শে এলে তাকে দুদিনের মধ্যে হেপাইটিস-বি ইমিউনোগ্লোবিউলিন ইনজেকশন দিয়ে হেপাটাইসি-বি ভাইরাসের বিরুদ্ধে সাময়িক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হয়। আর তার রক্তে ‘এইচবিএসএজি’ না থাকলে তাকে পূর্ণ ডোজে হেপাটাইসি-বি ভাইরাসের টিকাও দিতে হয়।

ইনজেকশনের মাধ্যমে শিরায় মাদক গ্রহণ না করা, অনিরাপদ যৌনমিলন পরিহার করা, একই ব্লেড বা রেজার দিয়ে সেলুনে শেভ না করা, রক্ত পরিসঞ্চালনের আগে রক্তে হেপাটাইটিস-বি আছে কিনা, তা পরীক্ষা করে নেওয়া, ইনজেকশন গ্রহণ করার সময় একবার ব্যবহার্য জীবাণুমুক্ত সুুই-সিরিঞ্জ ব্যবহার করা ইত্যাদির মাধ্যমেও হেপাটাইটিস-বি প্রতিরোধ করা যায়।

অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা :-
হেপাটাইটিস-বি এর চিকিৎসার জন্য ‘ল্যামিভাডিন’ নামক যে ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে, তা বিদেশে এ রোগের জন্য বেশ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। একটানা দুই বছরের বেশি সময় ধরে চিকিৎসা করে শতকরা ৫০ জনের ক্ষেত্রে আশানুরূপ ভালো ফল পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হচ্ছে।

দেখা গেছে, আরো বেশি দিন চিকিৎসা নিলে আরো বেশিসংখ্যক রোগী উপকার পান। এমনকি বিদেশে গবেষণায় দেখা গেছে, এ ওষুধ ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে না পারলেও লিভারের কর্মক্ষমতায় উন্নতি ঘটায় এবং সিরোসিসেরও উন্নতি করে। আমাদের দেশেও এ ওষুধের প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এ ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

একমাত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে এবং তত্ত্বাবধানেই এ ওষুধ সেবন করা উচিত। কারণ এ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে এবং তা রোগীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।

এ ওষুধ কমপক্ষে দুই বছর পর্যন্ত খেতে হতে পারে।
একবার শুরু করলে একমাত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শেই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে হবে।
বি-ভাইরাসের নিষ্ক্রিয় অবস্থায় শুধু এইচবিএসএজি পজিটিভ রিপোর্ট দেখে এ ওষুধ ব্যবহার করা মোটেই ঠিক নয়। কারণ তাদের ক্ষেত্রে এ ওষুধের কোনো প্রয়োজন নেই। সুতরাং নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্যারাসিটামল ট্যাবলেটের মতো এ ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা :-
যেখানে অ্যালোপ্যাথি আপনাকে দীর্ঘ মেয়াদী এবং প্রায় অনিশ্চিত ট্রিটমেন্ট দিয়ে থাকে সেখানে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন ও সফল হোমিওপ্যাথিক আপনাকে এই ধরনের রোগ থেকে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই চিরদিনের জন্য আরোগ্য করতে সক্ষম। যদি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় আপনার কোন প্রকার বিশ্বাস না থেকে থাকে তাহলে অন্তত একবার হলেও কারো জন্য ট্রাই করে দেখতে পারেন।

******** ডাক্তার আবুল হাসান ********
ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারী
বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, ঢাকা
একিউট এবং ক্রনিক রোগের হোমিও চিকিত্সক

আধুনিক হোমিওপ্যাথি
১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪
ফোন: ০১৭২৭-৩৮২৬৭১, ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫

ব্রেন টিউমারের এই ৮টি লক্ষণ এড়িয়ে যাচ্ছেন না তো
যেসব কারণে হতে পারে গলব্লাডার বা পিত্তথলির পাথর, লক্ষণসমূহ ও চিকিৎসা
ভেষজ গুণে অনন্য ফল আমলকি


সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী শাকিলা জাফর এখন কোথায় আছেন, কেমন আছেন?

শিশু চুরি করে এনে ‘বলি’ দেওয়া হচ্ছিল এক পুজোয়

লালমনিরহাটে বিয়ের মাত্র ৩ দিনের মাথায় স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিলেন স্ত্রী! অদ্ভুত এক কারনে

জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করতে হয় কেন, না করলে সমস্যা কী?

মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর হামলায় বৌদ্ধ ভিক্ষু গ্রেপ্তার

পৃথিবীতে সবচেয়ে রহস্য ঘেরা পাঁচটি স্থান যেখানে সাধারন মানুষের সম্পূর্ণ প্রবেশ নিষিদ্ধ

ডুবে গেছে রাস্তা-ঘাট, জনজীবন বিচ্ছিন্ন

প্রবাসের মর্গে পড়ে থাকা বাংলাদেশি নারীর পরিচয় মিলেছে

আগামীকাল ৩ পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইকে হত্যা করল আপন ভাই!

পানির নিচে ৩০ ঘণ্টার পরেও জীবিত সোহাগ!

পরীক্ষা হবে শুধু সৌন্দর্যের উপর! পাশ করলেই চাকরি

রোহিঙ্গা সঙ্কট ; মিয়ানমারকে পূর্ণ সমর্থন করল চীন

হায় অর্থকষ্ট: স্ত্রীর মৃত্যুর প্রহর গুণছেন অসহায় স্বামী

বাংলাদেশকে উন্নতির রাস্তা বলে দিলেন দ. আফ্রিকার ব্যাটিং কোচ

ভালোবেসে বিয়ে করা বড় ভুল হয়ে গেছে’ কেন এই কথা বলছে লালমনিরহাটের মেঘনা

সবাই এই বৃদ্ধাকে ভেবেছিল মানসিক ভারসাম্যহীন, কিন্তু পরিচয় জানার পর সবাই অবাক

যৌন চাহিদা মেটাতে নতুন যৌন পল্লী

যুক্তরাষ্ট্র কোনো সভ্য রাষ্ট্র নয়: এরদোগান

আর একদিন পর বাজারে আসছে ইলিশ




error: Content is protected !!
Copy to clipboard
[X]