বুধবার, ২৩শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং। ১০ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। সকাল ৯:৫৬








প্রচ্ছদ » প্রধান সংবাদ

চট্টগ্রামের ৭ টি আসনেই বিএনপির মূল প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল!

অাগামী ৩০ সে ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতিক দল গুলো নিজেদের লক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে । ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ তাদের চুড়ান্ত প্রার্থী‌দের ম‌নোনয়নের দিয়েছে।আজ থেকে শুরু হয়েছে  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জমা দেয়া মনোনয়ন পত্র বাছাই। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে সাতটিতে বিএনপির মূল প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসাররা।

এগুলো হচ্ছে চট্টগ্রাম-১, চট্টগ্রাম-৩, চট্টগ্রাম-৪, চট্টগ্রাম-৫, চট্টগ্রাম ৬, চট্টগ্রাম-৭ ও চট্টগ্রাম-১১। মনোনয়ন বাতিল হওয়া নেতাদের মধ্যে আছেন- সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম, মোরশেদ খান, ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস কাদের চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও যুগ্ম সম্পাদক আসলাম চৌধুরী।

বিস্তারিত পড়তে Read More ক্লিক করুন...

এ অবস্থায় করণীয় জানতে আজ রবিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাসভবনে ভিড় করেছেন মনোনয়ন বাতিল হওয়া অনেক প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকরা।

চট্টগ্রাম -১ আসনে (মিরসরাই) বিএনপির মূল প্রার্থী উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল আমীন। উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে বিএনপির মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার কোনও প্রমান দেখাতে না পারায় তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী ছিলেন মোস্তফা কামাল পাশা।কিন্তু বিটিসিএল’র টেলিফোন বিল বকেয়া থাকার অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। চট্টগ্রাম- ৪ (সীতাকূণ্ড) আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আসলাম চৌধুরী। ব্যাংকে ঋণখেলাপের অভিযোগে মনোনয়ন বাতিল করা হয় তারও।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী ছিলেন দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। ত্রুটিপূর্ণ থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেটের কপি না দেওয়া ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার বিল বকেয়া থাকার অভিযোগে বাতিল করা হয় চট্টগ্রাম-১১ (বোয়ালখালি- চান্দগাঁও) আসনের বিএনপি প্রার্থী মোরশেদ খানের মনোনয়নপত্র। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের গিয়াস কাদের চৌধুরী ও তার ছেলে সমীর কাদের চৌধুরীর মনোনয়নপত্রও গৃহীত হয়নি। গিয়াস কাদের চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিযেছিলেন। সেটাও বাতিল হয়ে যায়। রাঙ্গুনিয়া আসনে বিএনপির আরেক প্রার্থী মোহাম্মদ হাসনাতের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে।

এদিকে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাসভবনে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা চলছে মনোনয়ন বাতিল হওয়া নেতাদের। খুবই সামান্য কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, এমন প্রার্থীদের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলের স্থায়ী কমিটির এ সদস্য। এসময় আমীর খসরু বলেন, এ সরকার বিএনপির জনপ্রিয় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সামান্য কারণে বাতিল করেছে, যাতে যেনতেনভাবে নির্বাচনী ফলাফল নিজেদের পক্ষে আনা যায়। পরাজয় নিশ্চিত জেনে সরকারের প্রশাসন এসব করছে।

চট্টগ্রাম-১০ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আমীর খসরু। তার মনোনয়নপত্র বৈধ বিবেচিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমারটা গৃহীত হয়েছে, আমি অনেক ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তবেই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম সহকারিদের। তবে, সবই সরকারের ইচ্ছাধীন, আমারটাও বাতিল করে দিতে পারতো। শেষ পর্যন্ত আর পারেনি।

‘আমাদের ধারণা ছিলো, সরকার এ রকম একটি পরিস্থিতির দিকেই নিয়ে যাবে। সে ব্যাপারে আমরা প্রস্তুতও ছিলাম। তবে সামান্য কারণে কয়েকজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়া হয়’, যোগ করেন আমীর খসরু। এর মধ্যে দুই একজনের মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন তিনি।

আমীর খসরুর বাসভবনে উপস্থিত চট্টগ্রাম-১ আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, ‘আমি গত ২৭ নভেম্বর পদত্যাগ করেই ২৮ নভেম্বর এমপি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ বলা হলো, আমরার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে কি-না সেটার প্রমাণ নেই।’ এমন ‘আজগুবি সিদ্ধান্তের’ বিরুদ্ধে ট্রাইবুনালে আপিল করবেন বলেও জানান নুরুল আমীন।

এদিকে, চট্টগ্রাম-১১ (বোয়ালখালী) আসনে এম মোরশেদ থানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যাওয়ায ভাগ্য খুলেছে একই আসনে বিএনপির আরেক প্রার্থী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ানের। তিনি বলেন, আমার মনোনয়ন বৈধ হলেও সরকার আজ যা করেছে, তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। জনপ্রিয় প্রার্থীদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকার যে নীল নকশা এটেছে, প্রশাসন তা বাস্তবায়ন করছে।’