বুধবার, ২৩শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং। ১০ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। সকাল ৯:৫৩








প্রচ্ছদ » সারাদেশ

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় শ্রমিকদের শান্ত করলেন শামীম ওসমান!

আর মাত্র কয়েকদিন পরেই হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। এখন থেকেই মাঠে নেমে পড়েছেন সব নেতা কর্মীরা। তবে এর মাঝে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে চলেছে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ হয়েছে। উৎপাদন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে এ ঘটনা ঘটে। এতে ২০ পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশত শ্রমিক আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার ভোলাইল এলাকায় এন আর গ্রুপের শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের আশ্বাসে শ্রমিকরা শান্ত হয়।

বিস্তারিত পড়তে Read More ক্লিক করুন...

এ সংঘর্ষ চলাকালে গোলেনূর গুলি নামে এন আর গ্রুপ কারখানার এক নারী শ্রমিক নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন শ্রমিকরা। তবে পুলিশের দাবি, ভয়ে ও আতংকে তার মৃত্যু হয়েছে। তার উপর কোন আঘাত লাগেনি।

পুলিশ জানান, উৎপাদন মজুরি বৃদ্ধির দাবীতে এন আর গ্রুপের শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় কর্মবিরতি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়কে অবস্থান নেয়। এসময় শ্রমিকরা রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে বিক্ষোভ শুরু করে।

খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকরা পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ। এতে এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায় এবং কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

এসময় ২০ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত অর্ধশত শ্রমিক আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল ও শটগানের গুলি ছোড়ে।

সংঘর্ষের কারণে বেলা এগারোটা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত একঘণ্টা নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ঘটনাস্থলে গিয়ে কারখানা মালিকদের সাথে কথা বলে শ্রমিকদের দাবী পূরণের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা শান্ত হন। দুপুর ১টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

এদিকে শ্রমিক গোলেনূর বেগম গুলি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শহরের খানপুরে তিনশ’ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। শ্রমিকদের দাবি, পুলিশের হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে।

তবে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঞ্জুর কাদের দাবি করেন, পুলিশ কারো উপর হামলা করেনি বরং শ্রমিকরা পুলিশের উপর হামলা করেছে। পুলিশ তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেছে। নারী শ্রমিক নিহত হওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, সংঘর্ষ চলাকালে ভয়ে ও আতঙ্কে হার্ট এ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহাবুব উন নবী জানান, ঘটনাস্থলে বর্তামানে ফতুল্লা থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশ মোতায়েন রয়েছে