বুধবার, ২৩শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং। ১০ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। সকাল ৮:৩৮








প্রচ্ছদ » বিচিত্র সংবাদ

অভিনব প্রযুক্তি উদ্ভাবনঃ চালক নেশাগ্রস্থ বা ঘুমালে ‘সতর্কবার্তা’ পৌঁছে যাবে যাত্রীর কাছে!

বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দহিলা বড়হাট পাড়ার আব্দুল আজিজ এর ছেলে এবং কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ৩য় পর্বের শিক্ষার্থী  ছানোয়ার হোসেন ‘‘ড্রাইভার এন্টি স্লিপ অ্যান্ড অ্যালকোহল এ্যালার্ম ডিটেক্ট’’ নামে একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। নেশাগ্রস্থ অবস্থায় বা ঘুমিয়ে গাড়ী ড্রাইভ করলেই সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে যাত্রী ও গাড়ির মালিকের কাছে।

এমনকি নেশাগ্রস্থ অবস্থাতেও স্টার্ট দিবে না গাড়ি। দীর্ঘ এক বছর ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সফলতা পান তিনি। এই প্রযুক্তিটি প্রথমে কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত স্কিল কম্পিটিশনে এবং পরে রংপুরে বিভাগীয় স্কিল কম্পিটিশনে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ছানোয়ারের এই সাফল্যে খুশি সহপাঠীরাসহ শিক্ষকগণ।

বিস্তারিত পড়তে Read More ক্লিক করুন...

জানা যায়, যেকোন গাড়ির ড্যাস বোর্ডের সাথে কনসুলিং করে সম্পৃক্ত করা যাবে আইবিলিং ও অ্যালকোহল সেনসর। চালকের সম্মুক্ষে এই আইবিলিং সেনসর ১৮০ ডিগ্রি এ্যাঙ্গেলে চালককে ডিটেক্ট করবে। এছাড়াও গাড়ির সেলফের সাথে সংযুক্ত করা হবে ম্যাগনেটিক রিলে। যা ঘ্রান সংবেদনশীল।

চালক কোন নেশা জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করলেই সার্কিট অন হবে না। ফলে গাড়ি স্টার্ট দিবে না। এই সেন্সরের সাথে সর্বোচ্চ তিনটি মোবাইলে ডাটা সেট করা থাকবে। গাড়ির ড্রাইভার চলন্ত অবস্থায় নেশা গ্রহন করলে বা ঘুমিয়ে পরলে তিন সেকেন্ডের মধ্যে সতর্কবার্তা এলার্ম মোবাইলে বেঁজে উঠবে। ফলে গাড়ির মালিক, ম্যানেজার বা সুপারভাইজার চালককে সতর্ক করতে পারবে। এই এলার্ম সিস্টেম দুরপাল্লার গাড়ির ভিতরেও সংযোগ করা যাবে।

বিষয়টির ইতিবাচক দিক বিবেচনা করে কুড়িগ্রাম জেলা বাস ও মটর শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক সহিদুজ্জামান রাছেল জানান, এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়কে মৃত্যুর হারও কমিয়ে আনা সম্ভব। সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ছানোয়ার আগামীতে এই প্রযুক্তির উন্নয়নসহ আরও নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে পারবে।

শিক্ষার্থী ছানোয়ার হোসেন জানান, পরিবারে বাবা ও দু’ভাই ড্রাইভারের চাকুরী করার বিষয়টি মাথায় রেখে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে এই প্রকল্পটি নিয়ে অনেক চিন্তা-ভাবনা করে শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়ে প্রযুক্তিটি কমপ্লিট করেন। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দুর্ঘটনা অনেক কমবে। ড্রাইভাররা সতর্ক থাকবে। জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।